পৃষ্ঠাসমূহ

রসূল (সঃ) বলেছেন

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আবার এক নতুন দিনে জেগে উঠেছি।

 আজকের ভোরটা যেন অন্যরকম ছিল। আকাশে হালকা কুয়াশা, পাখির কিচিরমিচির, আর মাটির গন্ধে মিশে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি। সূর্যের প্রথম আলো যখন গাছের...

বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫

দাজ্জালের আগমন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক মহা ফিতনা

 


ভূমিকা



কেয়ামতের অন্যতম বড় আলামত হলো দাজ্জালের আগমন। ইসলামে দাজ্জালকে চরম ধোঁকাবাজ ও বিভ্রান্তিকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করবেন এবং মানুষের ঈমানের পরীক্ষা নেবেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) দাজ্জালের ফিতনাকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফিতনা বলে উল্লেখ করেছেন। তাই আমাদের জন্য প্রয়োজন দাজ্জাল সম্পর্কে জানা এবং তার ফিতনা থেকে বাঁচার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।



---


দাজ্জালের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য


রাসূলুল্লাহ (সা.) দাজ্জালের কিছু স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, যা থেকে আমরা তাকে চিনতে পারব।


১. দাজ্জালের শারীরিক বৈশিষ্ট্য


হাদিসে বলা হয়েছে:

“দাজ্জাল হবে টানটান চেহারার, রং লালচে-সাদা, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ অন্ধ, বাম চোখ উঁচু হয়ে থাকবে।"

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৩২)


আরেকটি হাদিসে এসেছে:

“দাজ্জালের কপালে ‘ك ف ر’ (কাফ-ফা-রা) অর্থাৎ ‘কাফির’ লেখা থাকবে, যা প্রত্যেক মুমিন পড়তে পারবে, যদিও সে নিরক্ষর হয়।”

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭১৩১)


২. দাজ্জালের অলৌকিক ক্ষমতা


দাজ্জাল কিছু অলৌকিক ক্ষমতা দেখাবে, যা আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। যেমন:


সে আকাশ থেকে বৃষ্টি নামাবে এবং মাটি থেকে ফসল উৎপাদন করবে।


সে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার ভান করবে।


তার সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো দুটি জিনিস থাকবে, কিন্তু তার জান্নাত আসলে জাহান্নাম হবে এবং তার জাহান্নাম হবে জান্নাত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৩৪)



কুরআনে আল্লাহ বলেন:

"আর (সেই দিন) তিনি বলবেন, ‘তোমরা কি আমার পরিবর্তে এদেরকে পূজা করেছিলে? অথচ আমি তাদেরকে এবং তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।’"

(সূরা আল-কাহফ: ৫০)



---


দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা


দাজ্জাল কোথা থেকে আসবে?


হাদিসে এসেছে, দাজ্জাল পূর্ব দিক থেকে বের হবে, বিশেষ করে খোরাসান (আজকের ইরান, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার কিছু অংশ) এলাকা থেকে।


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“দাজ্জাল পূর্ব দিক থেকে বের হবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৩৭)


দাজ্জালের ফিতনার ভয়াবহতা


দাজ্জালের ফিতনা এতটাই কঠিন হবে যে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে।


রাসূল (সা.) বলেন:

"আদম (আ.)-এর সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় কোনো ফিতনা পৃথিবীতে আসেনি।"

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৪৬)



---


দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়


১. সূরা কাহাফ পাঠ করা


রাসূল (সা.) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯)


২. দাজ্জালের সংস্পর্শ এড়ানো


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“যে ব্যক্তি দাজ্জালের কথা শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে।" (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩১৯)


৩. মক্কা ও মদিনায় অবস্থান করা


দাজ্জাল মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না, কারণ ফেরেশতারা এই দুটি শহর পাহারা দেবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৮১)



---


দাজ্জালের মৃত্যু


দাজ্জালের মৃত্যু হবে ঈসা (আ.)-এর হাতে। যখন দাজ্জাল পৃথিবীতে চরম ফিতনা ছড়াবে, তখন আল্লাহ ঈসা (আ.)-কে আকাশ থেকে প্রেরণ করবেন।


রাসূল (সা.) বলেন:

“ঈসা (আ.) দাজ্জালকে সিরিয়ার ‘লোদ’ নামক স্থানে হত্যা করবেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৩৭)



---


উপসংহার


দাজ্জালের ফিতনা মানবতার জন্য এক বিশাল পরীক্ষা। ইসলাম আমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, যাতে আমরা সচেতন হতে পারি। আমাদের উচিত ঈমান দৃঢ় রাখা, দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য সূরা কাহাফ পাঠ করা, এবং রাসূল (সা.)-এর নির্দেশনা মেনে চলা।


আল্লাহ আমাদের সবাইকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। আমিন!



---


সূত্র ও রেফারেন্স


1. কুরআন: সূরা আল-কাহাফ (১৮:৫০)



2. সহিহ মুসলিম: হাদিস ২৯৩২, ২৯৩৪, ২৯৩৭, ২৯৪৬



3. সহিহ বুখারি: হাদিস ৭১৩১, ১৮৮১



কোন মন্তব্য নেই: